1. nazmulrj40@gmail.com : md nazmul : md nazmul
  2. mizansatkhirapress@gmail.com : Satkhira Barta : Satkhira Barta
  3. tasahmed7@gmail.com : satkhira barta : satkhira barta
  4. shohaghassan0912@gamil.com : মোহনা নিউজ : মোহনা নিউজ
বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১২:২৮ অপরাহ্ন

স্ট্যাম্প ভেন্ডার হয়ে হাজার কোটি টাকার মালিক এত আয়ের রহস্য কি?

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৬ মে, ২০২৩
  • ২৬১ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে অপরাধ জগতে ভিন্ন মাত্রায় নাম দেয়া কয়েকজন আঞ্চলিক ধনকুবেরদের মধ্যে ফরিদপুরের ভাঙ্গার আজম আলী শেখ একটি প্রসিদ্ধ নাম। যিনি বেশ কয়েক বছর ধরেই ভাঙ্গায় আলোচনা-সমালোচনার শীর্ষে।
ভাঙ্গার ধনকুবের খ্যাত আজম আলী শেখ হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হলেও তিনি পেশায় একজন স্ট্যাম্প ভেন্ডার। মাত্র কয়েক বছর আগেও তিনি পেশায় একজন জেলে ছিলেন।

তবে প্রশ্ন হলো, স্ট্যাম্প ভেন্ডারী এবং দলিল লেখার কাজতো ভাঙ্গার অনেকেই করে তবে তারা কেন কোটি টাকার মালিক নয়?

আজম আলীর জাল দলিলের রোশানলে পড়ে সর্বশান্ত হওয়া লোকজনের সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। তিনি প্রশাসনের চোখকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে সরকারী অফিসের কর্মকর্তাদের ভয়-ভিতি প্রদর্শণ করে সুকৌশলে সাধারণ মানুষের অর্থ-সম্পদ লুটে নেন। আর সর্বশান্ত হওয়া মানুষগুলো কোন প্রতিকার চাইলেই টাকা পয়সা দিয়ে সূক্ষ্মভাবে ম্যানেজ করেন ধনকুবের আজম।

আজম আলীর অধিকাংশ অর্থের কেন্দ্রবিন্দুই অসংখ্য জাল দলিল। ভাঙ্গা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের কয়েকটি দলিল পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় ০২/০৬/২০২১ ইং তারিখের ২৫৩৫/২১ নং দলিলের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি পাল্টিয়ে জাল দলিল সম্পাদন করা। নমুনা হিসেবে আজম আলীর পর্যবেক্ষণ করা কয়েকটি দলিল যেমন, ২৩-১১-২০২১ ইং তারিখের ৫৮৬৮/২১ নং দলিল এবং ০৩-০৮-২০২০ সালের ২৪৯৬/২০ দলিলটিও এডিট করে সম্পূর্ণভাবে জাল করা হয়েছে।

এর মধ্যে, ২৪৯৬/২০২০ নং দলিলের দাতা মোসাঃ রওশন আরা খাতুন গত ৩১-০৭-২০২০ ইং তারিখে মৃত্যু বরণ করলেও ০৩-০৮-২০২০ ইং তারিখে মোটা অংকের টাকা নিয়ে মৃত. রওশন আরা খাতুনের স্বাক্ষরিত একটি জাল দলিল তৈরী করেন আজম আলী শেখ। তবে এ ব্যাপারে মৃত. রওশন আরা খাতুনের পুত্র আমির হোসেন মুন্সি (৫০) বাদী হয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৩নং আমলী আদালত ফরিদপুরে আজম আলী শেখ (৫০) সহ ৭ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৭০/২৩।

এ ব্যাপারে মো. বাবলু শেখ জানান, আমির হোসেন মুন্সি ও জমির মুন্সির দলিলটি সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে দাখিল করেন। উক্ত জমি সংক্রান্ত এ বিষয় নিয়ে ম্যাজিষ্ট্রেট ৩নং আমলী আদালত ফরিদপুরে মামলা করলে ঐ মামলার নথি উত্তোলন করলে দেখা যায় গত ২৩/০৭/২০২০ আমার দ্বারা টিপসহি সনাক্তকারীর দলিলটি ও মামলায় ব্যবহৃত দলিলটি এক নয়। আজম কারসাজি করে দলিলে রাহেলা বেগমের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। এ ধরনের কারসাজি আজম আলীর কৌশলেই হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠ তদন্তপূর্বক এর বিচার চাই।

স্থানীয় শামীম শেখ (৩৪) জানান, আজম আলী ভাঙ্গা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের সাথে যোগসাজস করে এরকম শত শত দলিল উলোপালট করেছে। কিন্তু আইনের বেড়াজাল ভেঙ্গে বার বার তিনি এ ধরনের অপরাধ করেই যাচ্ছেন। থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও এখনো কোন প্রতিকার পাইনি।

মো. ইদ্রিস খয়রাতি বলেন, আমি আর আজম একসাথে ধান কেটেছি, ছাতি সেরেছি। আমারও একটি জমির দলিল জাল করে আমাকে ভুগিয়েছে। জাল স্ট্যাম্প আর জাল দলিল করাই আজমের কাজ। তার দ্বারা দলিল করে আমাদের প্রতিবেশিরা অনেক ভুক্তভোগী। আমরা এধরনের আত্মসাৎকারীর বিচার চাই।

ভাঙ্গা সাব-রেজিষ্ট্রার বিল্লাল হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, জাল দলিল ও জালিয়াতির বেশ কিছু তথ্য আমার কাছে আছে।

বিগত কয়েক বছর আগে এখানকার বেশ কিছু জাল দলিলের কথা শুনেছি। এখন সেগুলো আদালতে মামলাধীন। আদালতই বিষয়টি দেখবে। আমি যদিও নতুন তার পরও ভবিষ্যতে ভাঙ্গা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে যাতে এ ধরনের কোন ঘটনা না হয় আমরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি।

দুদকের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম দৈনিক কুমারকে জানান, আমরা ইতিমধ্যে একজন অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছি তার বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য। দলিল জাল এবং জালিয়াতিসহ তার সকল অর্থনৈতিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে আজম আলী শেখ দৈনিক কুমারকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে কথাগুলো উঠেছে তার কোন ভিত্তি নেই। যে বা যারা আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপবাদ দিয়ে আমাকে হেনস্তা করবে আমি তার বিরুদ্ধে মানহানী মামলা করব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

প্রধান উপদেষ্টা

মো: মোশারফ হোসেন
প্রযুক্তি সহায়তায়: csoftbd